কোরান ও প্রচলিত শরিয়তের বিষয়বস্তু’, পার্থক্য এবং তার ভয়াবহতা যুক্তি-প্রমাণ ও সুত্র দ্রষ্টব্যসহকারে বিশদভাবে উক্ত গ্রনে’ আলোচিত হয়েছে। মোসলেম জাতির একমাত্র শরিয়ত হলো কোরান, এর বাইরে কোন বিধান কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়; তবে স্থান, কাল ও পাত্রভেদে খুটিনাটি বিষয় এবং একেবারেই গৌণ কোন বিষয় মতপার্থক্য হলে বা কোরানে থাকা সত্ত্বেও জ্ঞানের অভাবে সমাধান পেতে ব্যর্থ হলে, তা মানব কল্যাণের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণে সম্মিলিতভাবে (ব্যক্তিগত বা দলিয় নয়) সিদ্ধান- নেয়ার অধিকার কোরান দিয়েছে বটে (দ্র: ৪২: ৩৮; ১৭:৩৬)। কিন্তু’ শরিয়ত প্রচলিত অনুবাদ ও ব্যাখ্যায় তিল পরিমাণ রদ-বদল এমনকি কোরানের আলোকে নতুন কোন তথ্য বা তত্ত্ব আবিস্কার করলে তাকে কাফের, মোতাদ ফতোয়া দিয়ে হত্যা করবে অথবা দেশ ত্যাগে বাধ্য করবে। পক্ষান্তরে শরিয়ত নিজেই কোরানকে মাথায় রেখেই পদে পদে অস্কীকার করছে; হাদিছ-ফেকহা ইত্যাদি রচনা কওে কোরানকে সমূলে গিলে ফেলেছে; যার প্রত্যক্ষ সাক্ষি-প্রমাণ সমূহ গ্রন’খানি এবং এক নজরে নিম্নরূপ:
কোরান
শরিয়ত
কোরান ১. শরিকহীন কলেমা: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অর্থ: একাকার উপাস্য ব্যতীত অন্য কোন (খন্ডিত) উপাস্য নেই। যাবতিয় প্রশংসা, গুণগান একমাত্র উপাস্যেরই প্রাপ্য, অন্য কারো নয়।
শরিয়ত ১. শরিকী কলেমা: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ; অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য আল্লাহ নেই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাছুল। যাবতিয় প্রশংসা আল্লাহসহ নবি-রাছুল এমনকি স্ব নেতা, পীর ও ইমামদেরও প্রাপ্য।
কোরান ২. আল্লাহ নিরাকার, নির্বিকার; দৃশ্য-অদৃশ্য বা সৃষ্টি-অসৃষ্টি ব্যাপীয়া তার অবস্থান; সৃষ্ট বস্তু বা জীবের স্ব-স্ব হৃদয়ই আল্লাহ উপলব্দির সুত্র। আল্লাহকে কেউ কোনদিন বা কখনও পায় না বা দেখতেও পাবে না।
শরিয়ত ২.আল্লাহ জীব-জন’ জাতিয় এমন কিছু যা ৭ম আসমানের উর্দ্ধে বাস করেন। আল্লাহকে দেখা/ পাওয়া যায়। ৭ম আসমানের উর্দ্ধে বরই বাগান (ছেদ্রাতুল মোন্তাহার) তার উর্দ্ধে আল্লাহ আরশ; মতান্তরে তদোর্ধে ৮টি পাঠার পিঠে আল্লাহর আরশ ইত্যাদি।
কোরান ৩. কোরান অনুসারীদের একমাত্র মুসলমি বলা হয়। বাংলায় ভক্ত, ভদ্র, আদর্শ, নিবেদিত বা ধার্মিক এবং ইংরাজিতে ‘নোব্ল ম্যান’ বলা হয়।
শরিয়ত ৩. শরিয়ত অনুসারীদের শিয়া, সুন্নী, খারেজি, রাফেজি, ওহাবি, হানাফি, শাফেয়ি, হাম্বেলি, মালেকি, আহম্মদি ইত্যাদি নতুন খেতাব প্রযুক্ত মোসলমান বলা হয়।
কোরান ৪. ধর্মগ্রন’ হিসাবে একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত্ব এবং মহানবির স্ব-লিখিত/সাক্ষাতে লিখিত কোরানই সর্বস্ব; তারা পড়ে কোরান, অনুসরণ করেও কোরান।
শরিয়ত ৪. এরা স্বীকার করে কোরান, পড়ে কোরান কিন’ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও দলিয় রচিত দু’নম্বরী গ্রন্থ’ হাদিছ।
কোরান ৫. ‘কোরান’ বেদ,গীতা, গসপেল, তোরাহ ইত্যাদি অতীতের সকল ঐশী গ্রনে’র সংরক্ষক, সমার্থক ও সমর্থক; অর্থাৎ একই বানীর পুনরাবৃত্তি মাত্র, ইহাতে নতুন কিছুই নেই।
শরিয়ত ৫. শরিয়ত অতীতের সকল ঐশী গ্রন’ সত্য বলে স্বীকার করে কিন’ কোরানই যে তাওরান, যব্বুর, ইঞ্জিল, বেদ-গীতা ইত্যাদি তা মানতে অস্বীকার করে।
কোরান ৬. কোরান পূর্ণভাবেই পরিপূর্ণ; উহার কোনই ঘাটতি নেই, দুর্বলতা নেই; সহজ সরল প্রাঞ্জল ভাষায় পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ অবতীর্ণ।
শরিয়ত ৬. কোরান পূর্ণ নয়। অন্তত একটি আয়াত কম আছে। ব্যাভীচারি(নী)কে পাথর মেরে হত্যার আয়াতটি ছাগলে খেয়ে ফেলেছে (দ্র: ‘সরাসরি কোরান বিরুদ্ধ হাদিছ’ ক্রমিক নং-১২)। হাদিছ ব্যতীত কোরান বোঝা একেবারইে অসম্ভব।
কোরান ৭. সকল নবিই বিশ্ব নবি; একই আল্লাহর, একই উদ্দেশ্যে এবং সমমানের। এদের মধ্যে কেহ আন-র্জাতিক সামপ্রদায়িক, ছোট বড় ইত্যাদি পার্থক্যজ্ঞান করা হারাম।
শরিয়ত ৭. একমাত্র হযরত মুহাম্মদকেই শ্রেষ্ঠ নবি, নবিদের নবি; নবিদের নেতা; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট নবি, বিশ্ব নবি এবং অন্যদের ছোট ও গোত্রিয় নবি বলে বিশ্বাস করে।
কোরান ৮. আদি-অনাদিকাল পর্যন- পুনঃ পুনঃ নবি-রাছুল মনোনয়ন বা আগমণ ঘোষণা করে।
শরিয়ত ৮. একমাত্র হযরত মুহাম্মদকেই শেষ নবি, নবি আর আসবে না বলে বিশ্বাস করে।
কোরান ৯. নবিগণ এবং মুহাম্মদও ভুত-ভবিষ্যৎ জানতেন না; মৃত্যুর পর কিরূপ ব্যবহার করা হবে তা’ও জানতেন না।
শরিয়ত ৯. শরিয়তের বিশ্বাস মুহাম্মদ অতীত,বর্তমান ভুত-ভবিষ্যৎ সবই জানতেন।
কোরান ১০. হযরত মোহাম্মদ কোরানের বাহিরে বা বিপরিত তিল পরিমাণও কোন কথা বা কাজ করেন নি। করলে তাঁর ঘাড়ের শিরা কেটে ফেলা হতো।
শরিয়ত ১০. হযরত মুহাম্মদ কোরানের বাইরে বা বিপরীত লক্ষ লক্ষ কথা ও কাজ করেছেন যা হাদিছ ও সুন্নাহ নামে প্রতিষ্ঠিত।
কোরান ১১. মোসলেমসহ অতীতের সকল জাতির মধ্যেই ভালো-খারাপ উভয়ই আছে। স্ব-স্ব কর্মফল অনুযায়ী সকল জাতি বেহেস–দোযখের সমঅধিকারী।
শরিয়ত ১১. একমাত্র দল-উপদলিয় মোসলমান ছাড়া অন্য জাতির দোযখ ছাড়া বেহেসে-র অধিকার নেই।
কোরান ১২. সকল মানুষের প্রতিটি কর্মের চুলচেরা হিসাব নিকাশ, বিচার-বিবেচনা করে বেহেস–দোযখ প্রদান করা হবে।
শরিয়ত ১২. একমাত্র শেরেকী গুণা ছাড়া যতই অপকর্ম করুক মৃত্যুর পূর্বক্ষণে ‘লাই-লাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাছুলাল্লাহ’ বললেই বিনা বিচারে বেহেস- প্রদান করা হবে।
কোরান ১৩. কোরান ঘোষণা করে: একমাত্র খ্রিস্টানগণই মোসলেমদের ঘনিষ্ট বন্ধু।
শরিয়ত ১৩. খ্রিস্টানদেরকে কাফের, মোরতাদ এবং চিরশত্রু মনে করে; কারণ অকারণে তাদের হত্যা করলেই বেহেস্ত অবশ্যম্ভাবি মনে করে।
কোরান ১৪. ন্যাশনালিজম, ক্যাপিটালিজম, কমিউনিজম বা মনার্কিজম সমর্থ করে না।
শরিয়ত ১৪. বিশ্বের অধিকাংশ মোসলমান দেশ, এমনকি নবির জন্মভূমি সমগ্র আরবদেশে রাজতন্ত্র বলবৎ রয়েছে।
কোরান ১৫. ধর্ম নিরপেক্ষতা ইসলামের মূল ও মৌলিক ভিত্তি।
শরিয়ত ১৫. সামপ্রদায়িকতা শরিয়তের প্রধান মুল ও মৌলিক ভিত্তি।
কোরান ১৬. পশু-পক্ষি, কীট-পতঙ্গের ভাষাসহ সব ভাষাই আল্লাহর ভাষা।
শরিয়ত ১৬. একমাত্র আরবি ভাষাকেই আল্লাহর ভাষা এবং বাকিগুলি কাফের, বে-দ্বীন তথা মানুষের ভাষা মনে করে।
কোরান ১৭. কোরানের আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬টি।
শরিয়ত ১৭. কোরানের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি বলে ১৪ শত বৎসর যাবৎ বিশ্বাস করে আসছে।
কোরান ১৮. মানুষ মাত্রই পাপ বা ভুলের উর্দ্ধে নয়; কোরান সংকলনও ভুলের উর্ধে নয়।
শরিয়ত ১৮. তাদের অন্ধ বিশ্বাস যে, কোরান সংকলন যেকোন ভুল বা সন্দেহের উর্ধে।
কোরান ১৯. হযরত ঈসার মাতা বিবি মরিয়ম নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
শরিয়ত ১৯. হযরত মুহাম্মদের কন্যা বিবি ফাতেমা নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ;কেহ আবার বিবি খাদিজাকেও মনে করেন।
কোরান ২০. সত্য, সঠিক ও মানব কল্যাণ বা নেক অ-নেক কাজে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান।
শরিয়ত ২০. যেকোন অবস’াতেই শরিয়ত নারী কর্ম, নেতৃত্ব হারাম মনে করে। সকল ক্ষেত্রেই ১ জন পুরুষের সমান ২ জন নারী মনে করে।
কোরান ২১. বিশেষ এবং অসাধারণ কারণ ছাড়া একই সময় একাধিক স্ত্রী গ্রহণ হারাম।
শরিয়ত ২১. কোন কারণ ছাড়াই একজন মোসলমান এক সঙ্গে চার জন স্ত্রী ভোগ করতে পারে এবং তা ফরজ বলে বিশ্বাস করে।
কোরান ২২.একমাত্র নবি ছাড়া ঘনিষ্ট ভাই-বোনদের সঙ্গে বিয়ে প্রথা হারাম ঘোষণা করে।
শরিয়ত ২২. ঘনিষ্ট ভাই-বোনদের সঙ্গে বিয়ে প্রথা হালাল মনে করে এবং তা অহরহ ঘটছে।
কোরান ২৩. একক আল্লাহতে বিশ্বাসী হিন্দু বৌদ্ধ,খী্রস্টান; সকল জাতির সঙ্গে বিয়ে প্রথা হালাল ঘোষণা করে; একমাত্র পৌত্তলিক ও মোশরেক ছাড়া।
শরিয়ত ২৩. মুসলমান ছাড়া সকল জাতির সঙ্গে বিয়ে প্রথা চূড়ান্ত হারাম মনে করে; এমনকি স্ব-জাতির উপ-দলিয়দের সঙ্গেও বিয়ে প্রথা হারাম মনে করে।
কোরান ২৪. বাকি মোহরানায় বিয়ে প্রথা হারাম।
শরিয়ত ২৪. মোসলমানদের মধ্যে ৯৯.৯৯% শতাংশ বিয়ে হয় বাকি মোহরানায়।
কোরান ২৫. এক তালাক বলবৎ হ’তে অন্যুন ৩ মাস; তিন তালাক বলবৎ হতে অন্যুন এক বৎসর থেকে ঘটনাভেদে ২/১০ বৎসরও লাগতে পারে।
শরিয়ত ২৫. তিন তালাক বলবৎ হ’তে মাত্র ৩ সেকেন্ড সময়ও লাগে না।
কোরান ২৬. কথিত ঘৃণিত ‘হিল্লা’ বিয়ে বলবৎ হতে অন্যুন ২ বৎসর থেকে ১০/২০ বৎসর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
শরিয়ত ২৬. ‘হিল্লা’ বিয়ে বলবৎ হ’তে মাত্র একটি অশ্লীল রাতের প্রয়োজন হয়।
কোরান ২৭. হায়েজ-নেফাস কালে স্ত্রী-সহবাস বা সম-জাতিয় যৌন ব্যবহার হারাম। এ সময় মা- বোনদের সঙ্গে যেরূপ আচরণ করা হয় ঠিক তদ্রুপ ব্যবহার করবে।
শরিয়ত ২৭. এ অবস্থায় সঙ্গম ছাড়া বাকি সকল যৌনকর্ম হালাল মনে করে; এমনকি রাছুল অহরহ তা করতেন বলে শরিয়ত প্রকাশ্যে সাক্ষি দেয়। এ সময় ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সঙ্গম করে ফেললেও কিছু জরিমানা দিলে হালাল হয়।
কোরান ২৮. নামাজে কি বলা হয় বা হবে তা না বোঝা পর্যন- নামাজে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
শরিয়ত ২৮. জানা-বোঝার কোনই দরকার নেই; মাত্র কিছু আয়াত মুখস্ত করে নামাজ পড়া ফরজ মনে করে।
কোরান ২৯. সকল নামাজের স্বর সম শব্দ বিশিষ্ট হতে হবে। উচ্চ স্বরে বা একেবারে নিম্ন স্বরেও নয়; বরং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে।
শরিয়ত ২৯. ফজর ও মাগরিবের নামাজ উচ্চ স্বরে, বাকি সকল নামাজ একেবারে নিম্নস্বরে, কোন অবস্থাতেই মধ্যম পস্থা অনুসরণ হারাম মনে করে।
কোরান ৩০. রোজার সময়কাল সৌর গণনা এবং তুলনায় স্ব-স্ব সার্বিক শ্রেষ্ঠ কল্যাণের মাসটি অনুসরণ করবে; নির্দিষ্ট কালে রোজা রাখবে।
শরিয়ত ৩০. দৈনিক রোজাটি সুর্য দেখে এবং মাসটি চন্দ্র দেখে, পর্যায়ক্রমে অনির্দিষ্ট কালে রোজা রাখে।
কোরান ৩১. রোজা রাখা অবস্তায় যেকোনভাবেই হোক পানাহার ও সহবাস নিষিদ্ধ।
শরিয়ত ৩১. রোজা থাকা অবস্থায় চনাবুটের কম পরিমাণ যে কোন খাদ্য যে কোন সময় বা অহরত খেতে পারে। ভুলে বার বার পেট ভরে খেলেও রোজা ভাঙে না। ভুলে সঙ্গম করলেও রোজা ভাঙে না;কাফ্ফারাও দিতে হয় না।
কোরান ৩২. হজ্জের দিন তারিখ হজ্জের মাসগুলির ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে হ’তে হবে।
শরিয়ত ৩২. হজ্জের দিন তারিখ জিলহজ্জ মাসের ৯ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে করা হয়। ইচ্ছা হলে আরব বাদশা ঐ তারিখও যেকোন সময় পরিবর্তন করতে পারে।
কোরান ৩৩. ধর্মের নামে অকাতরে এবং নির্বিচারে নিরীহ পশু হত্যার বিধান নেই। অপচয়কারীইগণই শয়তান।
শরিয়ত ৩৩. হারাম বা হালাল হোক ধর্মের নামে ধনীদের পশু হত্যা ফরজ মনে করে। যাদের পশু সংগ্রহ করার ক্ষমতা নেই তাদের ১০ দিন ধরে রাখা নখ, চুল ও যৌন লোম চাঁছা পশু কোরবানীর সমান ছওয়াব পাবে।
কোরান ৩৪. সাপ্তহিক জুমার দিন ৭ম দিবস শনিবার পালনের ইঙ্গিত আছে।
শরিয়ত ৩৪. শনিবার ৭ম দিন ইহুদিদের দিন কল্পনা করে এবং তা বর্জন করে ষষ্ঠ দিন শুক্রবার পালন করে।
কোরান ৩৫. তুলনায় নুন্যতম প্রয়োজনাতিরিক্ত স্থবর- অস্থবর অর্থ-সম্পদ ভোগ বা ধারণ চূড়ান্ত হারাম। সাম্যবাদ কোরানের মূল মন্ত্র।
শরিয়ত ৩৫. হালাল-হারাম যাই হোক স্থবর- অস্থবর সম্পদের পাহাড় গড়ার অধিকার আছে। বৎসরে মাত্র ২.৫০% শতাংশ কথিত জাকাত দিলে বাকি ৯৭.৫০% হারাম অর্থ-সমঙদ হালাল হয়।
কোরান ৩৬. মৃত্যুর পূর্বে স্ব-জ্ঞানে এবং ইচ্ছামত সম্পত্তি উইল করা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত বা কোন কারণ বশতঃ কিছু রেখে গেলে তা বন্টন হবে: পুরুষ-২ এবং নারী-১। বন্টন কালে এতিম ও নিকট অভাবিদের কিছু অংশ দেয়া ফরজ।
শরিয়ত ৩৬. ৯৯% শতাংশ মোসলমান মৃত্যুর পূর্বে উইল করে না। ১% শতাংশ মোসলমানও এতিম বা অভাবিদের ০.০১% অংশও দেয় না।
কোরান ৩৭. আক্রান- না হওয়া পর্যন্ত কারো উপর আক্রমণ হারাম। যেভাবে আক্রান্ত হয় ঠিক সেভাবেই প্রতিহত বা প্রতিআক্রমণ করতে পারে। স্ব-জাতির মধ্যে হত্যা চূড়ান- হারাম।
শরিয়ত ৩৭. ব্যক্তি ও দলের মতবাদ প্রতিষ্ঠায় জেহাদের নামে যেকোন অবস্থায় অন্য জাতিদের অকাতরে হত্যা, খুন, গুম করা ফরজ মনে করে এবং উহার পুরস্কার নিঃশর্ত বেহেস্ত প্রাপ্তি মনে করে।
কোরান ৩৮. ধর্মে বা কারো বিশ্বাসের উপর কোন অজুহাতেই জোর, যুলুম,আক্রমণ বা অত্যাচার হারাম।
শরিয়ত ৩৮. জোর, যুলুম, হত্যা,খুন, গুম, ভয়ভীতি, লোভ এমনকি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শরিয়তি মতবাদ প্রতিষ্ঠা ফরজ মনে করে।
কোরান ৩৯. যেকোন অবস্থায় সমাজে শান্তি- ধারণ ও রক্ষণ সর্বোচ্চ ও চূড়ান- ধর্ম এবং উহাই ইসলাম।
শরিয়ত ৩৯. সমাজ বা দেশ নিপাত যাক,আল্লাহর ধর্ম বাস্তবায়নে [আল্লাহর কোন ধর্ম নেই] সমাজে শান্তি রক্ষার প্রয়োজন নেই।
কোরান ৪০. ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে হাদিয়া বা মজুরী গ্রহণ চূড়ান- হারাম, এমনকি মদ, শুকরের মাংসের চেয়েও হারাম।
শরিয়ত ৪০. অর্থের বিনিময় বা মজুরী ছাড়া শরিয়তের যাবতিয় ধর্ম-কর্ম একেবারেই অচল। ইমামের বেতন বন্ধ হলে ঐ মসজিদে তার নামাজও বন্ধ হয়।
কোরান ৪১. স্ব-স্ব দেশ, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী রুচিসম্মত পোশাকই ইসলামী পোশাক।
শরিয়ত ৪১. ইসলামি পোশাক নামে বিশেষ করে এশিয়ান মোসলমানগণ প্রকৃতপক্ষে নারীদের পোশাক গ্রহণ করেছেন।
কোরান ৪২. দাঁড়ি-টুপির কোনই বিধান এমনকি আকার- ইঙ্গিতও নেই। তবে নামাজের সময় সুন্দর পরিমার্জিত ভুষণ পরার আদেশ আছে।
শরিয়ত ৪২. আকার-আকৃতি ও বেশ-ভুষায় মহানবির নকল সাজাকে বেয়াদবি কান্ডজ্ঞান না করে বরং গুরুতর ছোয়াবের কাজ মনে করে।
কোরান ৪৩. নারী-পুরুষের পর্দা সম-গুরুত্বপূর্ণ; তবে নারীদের মাথায় বা গলায় হেজাব বা ওড়না ব্যবহার করবে যাতে মুখ দেখে সহজে চেনা যায়।
শরিয়ত ৪৩. পর্দার নামে নারীদের চোখ ছাড়া আর সব এমনভাবে ঢেকে রাখে যাতে মা, মেয়ে কি আপন স্ত্রী তা সনাক্ত করা কঠিন হয়। মুলতঃ ঐ পোশাক আলেম বে-আলেম সমগ্র পুরুষ জাতিকে অভদ্র, চরিত্রহীন ও অশ্লীল পশু চরিত্রের সাক্ষ্য দেয়।
কোরান ৪৪. মৃত্যুর পূর্বেই অর্থাৎ আগখানেই যাবতিয় কর্মের জবাবদিহি করা হয়।
শরিয়ত ৪৪. লাশ কবরে রাখার পরই ফেরেস্তা লাশকে জেন্দা করে মাত্র ৩/৪টি প্রশ্নোত্তর করে পুনরায় মারা হয়।
কোরান ৪৫. মরা, টাটকা রক্ত, মদ,শুকরের মাংস এবং যাতে আল্লাহর নাম লওয়া হয় না সেগুলি ছাড়া বাকি সকল কিছু এবং সকল জাতির জন্য সকল খাদ্য হালাল।
শরিয়ত ৪৫. নির্দিষ্ট হাতে গোণা কয়েকটি পশু ও মাছ ছাড়া আল্লাহর অফুরন- নেয়ামত বাকি সকল পশু ও মাছ মকরুহ ও হারাম মনে করে।
কোরান ৪৬. যে কোন কারণে ছবি আঁকা, ছবি তোলা, মূর্তি বানানো হালাল কিন’ উহাকে আল্লাহ জ্ঞান করা বা পুজা করা হারাম।
শরিয়ত ৪৬. ছবি, মূর্তি, সিনেমা, টি, ভি ইত্যাদিকে গুরুতর হারাম মনে করে।
কোরান ৪৭. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা হারাম। মৌলবী, মাওলানা, ছাইদি অর্থ: আল্লাহ বা প্রভু।
শরিয়ত ৪৭. মৌলবী [আমি/আমার প্রভু] মাওলানা [আমরা /আমাদের প্রভু], ছাইদি [প্রভু] ইত্যাদি শেরেকী খেতাবগুলি তারা অকাতরে নামের আগে-পরে ব্যবহার করছেন।
কোরান ৪৮. কোরান গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নব নব আবিষ্কারে সাহায্য-সহযোগিতা করে, অনুপ্রাণিত করে। জ্ঞানী-বিজ্ঞানীগণই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ
শরিয়ত ৪৮. শরিয়ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার ঘোর বেদাত ও হারাম ঘোষণা করে; বিজ্ঞানীদের প্রধানতঃ কাফের ঘোষণা করে।
কোরান ৪৯. কোরান পুনঃ পুনঃ অর্থাৎ পুনঃজন্ম পুনঃ পুনঃ ঘোষণা করে। ডারউইনের বিবর্তনবাদ সমর্থন করে।
শরিয়ত ৪৯. শরিয়ত পুনঃ জন্ম অস্বীকার করে কিন’ দুই বার পুনঃজন্ম স্বীকার করে। একবার কবরে দ্বিতীয়বার কেয়ামতের মাঠে। বিবর্তনবাদ অস্বিকার করে।
কোরান ৫০. কোরান হযরত ঈসার স্বাভাবিক মৃত্যু প্রমাণ করে।
শরিয়ত ৫০. শরিয়ত হযরত ঈসার মৃত্যু স্বীকার করে না কিন’ দলিয় ঘোষিত নবিদের নবি হযরত মোহাম্মদের মৃত্যু বিশ্বাস করে। মতান-রে কবরে এখনও জিন্দা আছে বলেও বিশ্বাস করে।
কোরান ৫১. ব্যক্তি ও মানব কল্যাণকর যাবতিয় কর্মকেই প্রকৃত এবং প্রধান ধর্ম বলে আখ্যায়িত করে।
শরিয়ত ৫১. শরিয়ত নামাজ,রোজা, হজ্জ, জাকাত এবং দাঁড়ি-টুপি, আতর- সুরমা ও জুব্বা-কাব্বাকে প্রধান ধর্ম মনে করে। কর্মকে ঘৃণা করে।
কোরান ৫২. ভিক্ষা দেওয়া ও ভিক্ষা বৃত্তি এবং অলস জীবন চূড়ান-ভাবেই ঘৃণা করে।
শরিয়ত ৫২. ভিক্ষা দান এবং গ্রহণ উভয়কেই ছোয়াব হিসাবে মনে করে। এক পয়সা ভিক্ষা দিলে ১০ থেকে ৭০ গুণ ছোয়াবে বিশ্বাস করে। অধিকাংশ আলেম- পীরগণ অলস জীবন যাপন করে।
কোরান ৫৩. মিথ্যাকে কোন অস্থাতেই বরদাস- করে না।
শরিয়ত ৫৩. মিথ্যার মাধ্যমে সত্য প্রচার হালাল মনে করে।
কোরান ৫৪. আল্লাহর সুন্নতে [বিধানে] কখনও কোন রদ- বদল হয় না।
শরিয়ত ৫৪. আল্লাহর কোন সুন্নত নেই, রাছুলের সুন্নত আছে এবং তা রদ-বদল হয় বা হয়েছে।
কোরান ৫৫. কোরানের উচ্চারণ, সুর বা শব্দ ছাড়া যারা আর কিছুই বুঝে না বা বুঝতে চেষ্টা করে না তারা বধির, অন্ধ, কাফের ও গাধার তুল্য;তাদের প্রতি আল্লাহ নাপাকী/আবর্জনা নিক্ষেপ করেন।
শরিয়ত ৫৫. কোরান বোঝার দরকার নেই শুধু পড়লে, মুখস- করলেই ঝুড়ি ঝুড়ি ছোয়াব এমনকি অক্ষর প্রতি ১০টি ছোয়াব পাওয়া যায়।
কোরান ৫৬. বর্তমান মনুষ্য জাতি আদম থেকে কিন’ আদমের পূর্বেও জীব বা মনুষ্য বা সমতুল্য জাতি ছিল বলে কোরান ইঙ্গিত দেয়।
শরিয়ত ৫৬. শরিয়ত সৃষ্টি তত্ত্বে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী : ১.আদমকে প্রথম মানব। ২. হযরত মুহাম্মদকে প্রথমের প্রথম মানব এবং তার নূরেই জগৎ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্বাস করে; ৩. তারও পূর্বে আল্লাহ ময়ুর পক্ষি সৃষ্টি করেন এবং হযরত মোহাম্মদ এবং তাঁর কন্যা বিবি ফাতেমা, জামাতা হযরত আলী ও নাতিদ্বয় হযরত হাসান ও হোসেনকে ঐ ময়ুরের মধ্যে রেখে দেয়া হয়।-
কোরান ৫৭. কোন এক রাতে মোহাম্মদ কাবা মসজিদ থেকে মসজিদুল আকসায় (দূরবর্তি স্থানে) ভ্রমন করেছিলেন। শরিয়ত ৫৭. কোন এক রাতে এবং মুহুর্তে মোহাম্মদ নারী পশুর পিঠে চড়ে বিশ্ব চরাচর, বেহেস–দোযখ এবং ৭ম আসমানের উর্দ্ধে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
কোরান ৫৮. ধর্মকে যারা খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তারা রাছুলের উম্মত নয়; তাদের উপর রাছুলের কোনই দায়িত্ব নেই।
শরিয়ত ৫৮. সুন্নীদের প্রধান ৪টি দল: হানাফী, শাফেই, হাম্বেলী ও মালেকী, এই ৪ দল (মোজাহাব) ৪ ফরজ বলে বিশ্বাস করে। বাকি দলগুলি একে অন্যকে কাফের, মোরতাদ বলে বিশ্বাস করে।
কোরান ৫৯. বেহেস–দোযখের অবস’ান বা সীমানা আকাশ-পাতাল বা আসমান-জমিন ব্যাপীয়া।
শরিয়ত ৫৯. বেহেস–দোযখ ৭ম আকাশের উর্দ্ধে নির্দিষ্ট কোন স্থানে।
কোরান ৬০. কোরানসহ অতীতের সকল ঐশী গ্রন’সমূহ গান বা সুর, তাল ও ছন্দে ছন্দে নাজিল হয়েছে।
শরিয়ত ৬০. আরবি গান ছাড়া বাকী সকল ভাষার গান হারাম বলে বিশ্বাস করে।
কোরান ৬১. কোরান প্রধানতঃ ২ ওয়াক্ত+রাতে অতিরিক্ত ১, মোট তিন ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ দেয়।
শরিয়ত ৬১. প্রধানত: ৫ ওয়ক্ত অতঃপর সুন্নত, নফল ইত্যাদিসহ অসংখ্য নামাজের বিধান রচনা করে ব্যক্তি ও সমাজের আর্থিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে ফেলেছে।
কোরান ৬২. ব্যভিচারি/ব্যভিচারিনীকে প্রকাশ্যে শত বেত্রাঘাত করা বিধান আছে।
শরিয়ত ৬২ .প্রধানতঃ ব্যভিচারিনীকে পাথর মেরে মৃত্যু দন্ড দেয়।
কোরান ৬৩. কুকুর গৃহ পালিত এবং সবচেয়ে প্রভু ভক্ত ও বিশ্বস্ত’ পশু।
শরিয়ত ৬৩. কুকুর শুকরের মতই ঘৃণীত; উহার ছোয়া লাগলে অজু-গোসল, নামাজ-রোজাসহ বেহেস্ত হারাম হয। কালো কুকুর শয়তান, দেখামাত্র মেরে ফেলবে।
কোরান ৬৪. ‘কাবাঘর’ আল্লাহর; সুতরাং আল্লাহর ঘরের যাবতিয় আয়-রোজগারের উপর বিশ্ব মুসলিমদের অধিকার সমানে সমান।
শরিয়ত ৬৪. ‘কাবাঘর’ সৌদি বাদশার। নিজে ছাড়া অন্য কারো ঢোকার অধিকার নেই; যাবতিয় আয়-রোজগার লা-শরিক সৌদি বাদশা।
***
২.মতান-রে তদোর্ধে ৮টি পাঠার পিঠে ইত্যাদি।???????
002.255
YUSUFALI: Allah! There is no god but He,-the Living, the Self-subsisting, Eternal. No slumber can seize Him nor sleep. His are all things in the heavens and on earth. Who is there can intercede in His presence except as He permitteth? He knoweth what (appeareth to His creatures as) before or after or behind them. Nor shall they compass aught of His knowledge except as He willeth. His Throne doth extend over the heavens and the earth, and He feeleth no fatigue in guarding and preserving them for He is the Most High, the Supreme (in glory).
PICKTHAL: Allah! There is no deity save Him, the Alive, the Eternal. Neither slumber nor sleep overtaketh Him. Unto Him belongeth whatsoever is in the heavens and whatsoever is in the earth. Who is he that intercedeth with Him save by His leave? He knoweth that which is in front of them and that which is behind them, while they encompass nothing of His knowledge save what He will. His throne includeth the heavens and the earth, and He is never weary of preserving them. He is the Sublime, the Tremendous.
SHAKIR: Allah is He besides Whom there is no god, the Everliving, the Self-subsisting by Whom all subsist; slumber does not overtake Him nor sleep; whatever is in the heavens and whatever is in the earth is His; who is he that can intercede with Him but by His permission? He knows what is before them and what is behind them, and they cannot comprehend anything out of His knowledge except what He pleases, His knowledge extends over the heavens and the earth, and the preservation of them both tires Him not, and He is the Most High, the Great.
Whats up?????????? ১৫. ধর্ম নিরপেক্ষতা ইসলামের মূল ও মৌলিক ভিত্তি। islamer mul vittti??????????? how dare u??? apni hajar hajar mowlana der skill korte paren??????????????
dishar, ছালাম। skill শব্দটির অর্থ বোঝা গেল না। ধর্ম নিরপেক্ষতা, মুসলিম, মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা এবঙ মৌলবী-মায়োলানা’ প্রতিবেদনগুলী সময় পেলে পড়ুন এবঙ কোরানের আলোকে মন্তব্য করুণ।
বিনীত।
robi, ছালাম। আপনার অনেক অনেক মন্তব্য পাই এমনকি Amarblog.com এয়ো। কিন্তু কোনটারই বিষয়বস্তু বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় বলে কখনোই জবাবা দেয়া হয় না। আসলে আপনি কি বলতে চান তা কোরানের সাক্ষি-সাবুদ/অনুসরণে সহজ করে বলতে পারেন (যদি সম্ভব হয়)। অতপর জবাব দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।
বিনীত।
বর্তমান বিশ্বে শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ হচ্ছে কোরান বনাম শরিয়ত গ্রন্থ । আমার বিশ্বাস সরাসরি মহান প্রভুর হস্তক্ষেপ ছাড়া এত নিখুতভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা কোন গ্রন্থে তুলে ধরা সম্ভব নয় । কিন্তু এ অসম্ভবটি কোরান বনাম শরিয়ত গ্রন্থে দৃশ্যমান ।