নবি-রাছুল, দেবতা-অবতার, মুনী-ঋষি, পয়গম্বর, নেতা-নেতী যতই আসুক আর যাক বিশ্বে এমন কোন কম বেশি একটি কাল কাটেনি যে কালে সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ সুপথ প্রাপ্ত হয়ে সম্মিলীতভাবে শান্তিতে বসবাস করেছে। আর যখনই কোন মহাপুরুষ এসে শান্তির বাণী প্রচার করেছেন তখনই পথ ভ্রষ্টগণ সংখ্যা গরিষ্ঠের দোহাই দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, আজও অনুরূপ প্রত্যাখ্যান করছে।
সারা জীবনে ধর্ম বিষয় যতবার আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক করা হয়েছে, ঠিক ততবারই কোরানের কাছে হেরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি মাত্র যুক্তি উত্থাপণ করে জিতে গেছেন; আর যুক্তিটি হলো: ‘ কত অলি-আউলিয়া, গাউছ-কৃতুব, সাধক-গবেষক গত হয়ে গেলো এবং আছেন কিন্তু’ তারা কখনও এমন কথা বলেননি! কোটি কোটি মানুষ, সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণ একই মতে আছে; সুতরাং তুমি যা বলছো তা সত্য নয়! তোমার দলে লোক নেই ইত্যাদি!’
যদিও তাদের সামনে কোরান খুলে সত্যতার যুক্তি-প্রমান দেখানো হয়েছে। এমনও অদ্ভুত অবান্তর কথা শুনতে হয়েছে যে, ‘হাঁ! যে প্রমান দেখালে তা কথা সত্য বটে! কিন’ প্রচার করলে সমাজে বিভ্রান্তের সৃষ্টি হবে, যতটুকু ইসলাম আছে তা’ও থাকবে না ইত্যাদি।’ অর্থাৎ জেনে-শুনে এবং স্ব-জ্ঞানেই তারা কাগজের কোরান মাথায় নিয়ে হৃদয়ের কোরান জীবনভর পদ দলিত করছে। এদের সম্বন্ধে কোরান ঘোষনা করে:
১. [ ২: বাকারা-৬-৮] কাফেরদের সতর্ক কর বা না কর উভয়ই সমান; তারা বিশ্বাস করবেই না। উপাস্য তাদের হৃদয়, কর্ণ ও চোখে সিল্ মেরে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাসি-। মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা উপাস্য ও পরকালে বিশ্বাসী কিন’ তারা বিশ্বাসী নয়।
২. [১১: হুদ-১৭] -ইহাতো তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত সত্য, কিন্তু’ সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ তা বিশ্বাস করে না।
৩. [১০: ইউনুস-৯২] অবশ্যই মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই আমার বাণী সম্বন্ধে গাফিল।
৪. [১৪: ইব্রাহিম-৩৪]- আল্লাহর অনুগ্রহের সংখ্যা নির্ণয় করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন’ অধিকাংশ মানুষ অবশ্যই জালিম ও অকৃতজ্ঞ (কাফের)।
৫. [১৬: নাহল- ৩৮, ৭৫]- যাবতিয় প্রশংসা উপাস্যের প্রাপ্য; কিন’ অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
৬. [৫: মায়েদা-৩২]- তাদের কাছে আমার রাছুলগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরও অধিকাংশই মোশরেক রয়ে যায়/গেল।
৭. [৭: আরাফ-৩]- যা অবতীর্ণ করা হয়েছে শুধু ইহাই অনুসরণ কর এবং উহা ছাড়া অন্য অভিভাবক অনুসরণ করিও না। তোমরা খুবই অল্প সংখ্যক উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
৮. [৭: আরাফ-১৭৯] আমি তো সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ ও জ্বিনকে দোযখের জন্যই সৃষ্টি করেছি। কারণ তাদের হৃদয়, চক্ষু ও কর্ণ আছে কিন’ তদ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, দেখে না ও শোনে না-।
৯. [৩৮: সাদ-৮২-৮৫] – একমাত্র একনিষ্ঠ লোক ছাড়া বাকি সকলকেই পথ ভ্রষ্ট করব।- তুমি ও তোমার অনুসারিদের দ্বারা দোযখ পরিপূর্ণ করব।
১০. [৮০: আবাসা-১৭] খুনী মনুষ্যজাত বড়ই অকৃতজ্ঞ (কাফের)।
১১. [২৩: মুমিনুন- ৭৮] – তোমাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।
১২. (২৭: নামল-৭৩) -আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়াশীল কিন্তু সংখ্যা গরিষ্ঠই অকৃতজ্ঞ।
১৩. (৩২: সাজ্দা-৯) -অতি সামান্যই তোমরা কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে থাক।
১৪. (৪৩: যুখরুখ- ১৫) মনুষ্যজাতি স্পষ্টতঃ কাফের।
১৫. (১০০: আদিয়াত- ৬)- মনুষ্যজাত অবশ্যই তার প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ।
১৬. (২২: হাজ্জ-৬৬)- মনুষ্যজাতি অতি মাত্রায় অকৃতজ্ঞ।
১৭. (১৭: বনি-ইস্রাইল-৬৭)- মনুষ্য জাত অতিশয় অকৃতজ্ঞ (কাফের)।
১৮. (১২: ইউসুফ- ১০৬) তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন’ তারা পৌত্তলিক (কাফের মুশরকি)।
*
001.001
PICKTHAL: In the name of Allah, the Beneficent, the Merciful.
001.002
PICKTHAL: Praise be to Allah, Lord of the Worlds,
001.003
PICKTHAL: The Beneficent, the Merciful.
001.004
PICKTHAL: Master of the Day of Judgment,
001.005
PICKTHAL: Thee (alone) we worship; Thee (alone) we ask for help.
001.006
PICKTHAL: Show us the straight path,
001.007
PICKTHAL: The path of those whom Thou hast favoured; Not the (path) of those who earn Thine anger nor of those who go astray.