১০৩ ছালামু আলাইকুম

‘আছ ছালাম [আল+ছালাম] আলাইকুম’। অর্থ: একটি শান্তি বা শান্তিটি আপনার উপর; ‘আছ্‌লাম [‘ছালাম’এর বহুবচন] আলাইকুম’ অর্থ: অসংখ্য শান্তি আপনাদের উপর। ‘ছালাম আলাইকুম’ অর্থ: শান্তি আপনাদের উপর। বাক্যগুলির অর্থ এরকমের হলেও আমরা অনুমান করে থাকি যে, আল্লাহ আপনাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুক।আরবিতে যা এরূপ: ‘ছালামুল্লাহ/ছালামাল্লাহ আলাইকুম।’ কিন্তু আমরা তা কখনও বলি না। সে যাইহোক, আল্লাহর শান্তি, সাহায্য যাবতিয় দোষ [?] গুন ও স্বীয় পরিচয় বহন করে তার সৃষ্টি। সৃষ্টির মাধ্যমেই আল্লাহর বিকাশ-প্রকাশ ও পরিচয়। সৃষ্টির মাধ্যম ছাড়া পারতপক্ষে স্রষ্টার কোন রহমত কল্পনা করা যায় না। একে অন্যের পরস্পর সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া সমাজ বা সৃষ্টি গতিহীন, ধর্মহীন তথা স্থাবর। তাই কোরানে পরস্পর ছালাম [শান্তি/সাহায্য] বিনিময়ের নির্দেশ আছে। আমরাও তাই পরস্পর দেখা মাত্র ঘোষণা করি: আল্লাহ আপনাদের উপর সাহায্য শান্তি বর্ষণ করুক। কিন্তু পারতপক্ষে আমি আপনাদের শান্তি, সাহায্য করতে রাজি নই। যেমন ধরুন: ছালাম দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি সে বলে যে, ‘বাবা আমার মাথার বোঝাটা একটু বাড়ি পৌঁছে দেবে?’ বৃদ্ধের অনুরোধ তখন স্পর্ধায় গণ্য করে হতবাক হই, মোড়ল-মাতব্বর, জননেতাগণ বিব্রত বোধ করেন আর আলেম-আল্লামাগণ অপমান বোধ করেন। কিন্তু বাক্যটির মুল ও তাত্ত্বিক অর্থ যদি এমন হতো: ‘আমি কি আপনার কোন সাহায্যে লাগতে পারি?’ ‘আপনার সাহায্যের জন্য আমি প্রস্তুত;’ ‘বলুন কি করতে হবে;’ ‘আমি আপনার সেবায় উৎসর্গিত।’ তখন প্রার্থীর অনুরোধ মতে সাহায্যটি করে ফেলে−ই নগদ নগদ আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হয়েছে বলে তৎক্ষণাৎ সাক্ষি পাওয়া যেত। দয়া বা রহমত বিনা কর্মে আসে না। আর কর্মবিহীন দোয়া আল্লাহ, প্রকৃতি গ্রাহ্য করে না। আহা! এমন যদি হতো! তবে গর্ব, হিংসা ও অহংকারের মুল উৎপাটিত হয়ে বিশ্ব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হ’তে বন্দুক-গোলাবারুদ আর এ্যাটম বোম তৈরি হ’তো না! আর কোন দেশ বা ব্যক্তির ভিক্ষাও করতে হতো না। আল্লাহ ও তার রাছুল এই উদ্দেশ্যেই ‘ছালাম’ বা শান্তি বিনিময় প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন বলেই মনে হয়। কিন্তু প্রচলিত ‘ছালামে’ কেউ কোন দিন ‘শান্তি’ বর্ষিত হ’তে দেখেছেন বলে মনে হয় না! যার বাস্তবার্থ: আল্লাহ শান্তি বর্ষণ করুক কিন্তু আমি করতে রাজি নই! আর তাই বলেই সমাজের পীর, আলেম, ইমাম, মোড়ল, মাতুব্বর, নেতাজীগণ রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, মসজিদ-মাদ্রাসায় সর্বত্রই গরীব, র্দু্বল, অসহায় ও অভাবীদের কাছ থেকে আগে ‘ছালামটি’ পাওয়ার জন্য হা করে চেয়ে থাকেন। ছালাম না দিলে তারা অপমান বোধ করেন; বেয়াদপ, বে-দ্বীন, নাছারা বলে ফতোয়া, গালিগালাজ করে থাকেন। পক্ষান্তরে ওয়াজনছিহতের বেলায় ‘আমার নবির আগে কেহ তাঁকে ছালাম দিতে পারতো না’ ইত্যাদি সুললিত সুরে কপোল ভাসিয়ে দেন। সকল জাতির মধ্যেই এই ছালাম প্রথা প্রচলিত আছে; যেমন: ‘গুড মর্নিং,’ ইহার ভাবার্থ হলো: বেলা ১২টার আগ পর্যন্ত নিঃশর্ত সেবার স্ব-ঘোষিত অঙ্গিকার। বাক্যটিতে মূলার্থ অস্পষ্ট এবং অসম্পূর্ণ বিধায় উহা উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই আবার তাদের বলতে হয়: ক্যান আই হেল্প ইউ! আমি কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি? হিন্দুগণ বলেন আরো উনড়বত পর্যায় ‘নমস্কার’ অর্থাৎ ‘আপনি আমার নমস্য বা আমি আপনার সেবক বা গোলাম ; অর্থাৎ জো হুকুম জাঁহাপনা।’ মানবতাবাদের এই বিরল দৃষ্টান্ত নাস্তিকগণ ধর্মগ্রন্থে আজও খুজে পাননি। খুজে পেয়েছেন নবিদের চরিত্র হরণের দলিল; খুজে পেয়েছেন বোখারী, মোসলেম, মওদুদী আর স্বঘোষিত প্রভু ও রাছুলদের সচিব: আলেম-ইমাম ও পাদ্রি ব্রাম্মনদের। এদের কথা, কেতাব কর্ম দিয়ে মূল ধর্মগ্রন্থের মূল্যায়ণ যারা
করেন তারাই নাস্তিক বলে পরিচিত, এরা আরো ভয়ঙ্কর। [বি:দ্র: আরবি, বাংলা ও ইংরেজি অসংখ্য অনুবাদকের অনুদিত কোরান অনুসরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ হাদিছের সুত্র দেয়া হয়েছে। তবুও যদি কিছু বাকি থেকে থাকে তবে প্রয়োজনে নিম্ন লিখিত গ্রন্থে যে কেউ তা খুঁজে দেখতে পারেন: বিভিনড়ব অনুবাদক ও প্রকাশকের ছহিহ বোখারী ১ম থেকে ৭ম খন্ড; ছহিহ মোসলেম; রিয়াদুস সালেহীন; হাদিছ সংকলনের ইতিহাস; সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্ব কোষ, ১ম থেকে ২য় খন্ড: হাদিছে রাছুল; মোস্তফা চরিত, বেহেস্তের জেওর, তফছিরে কোরান, মোকছেদুল মোমেনীন, হাকিকাতুল অহী; অতঃপর ছেহা-ছেত্তা এবং বেদ, গীতা,বাইবেল ইত্যাদি।- গ্রন্থকার।]

***

This entry was posted in > Quran vs Sariat কোরান বনাম শরিয়ত. Bookmark the permalink.

Comments are closed.